তাজমিনকে গভীর রাতে একা পেয়েই ফন্দি আঁটেন সুমন...see more
তাজমিনকে গভীর রাতে একা পেয়েই ফন্দি আঁটেন সুমন
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৩) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার রাতে সিএনজি অটোরিকশায় উঠে ভিন্ন পথ দেখে বাবাকে মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিল কিশোরী তাজমিন। কিন্তু গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় সেই আকুতি আর দেখতে পাননি। নির্জন স্থানে নিয়ে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে চালক সুমন।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ধর্ষণের পর সিএনজিতে থাকা গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে চালক সুমন। সে একাই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তার আগে রাতে বাস থেকে নেমে শহরের রেসকোর্স বাসায় ফিরতে ওই সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে তাসনিম।
তিনি আরও জানান, গভীর রাতে একা পেয়ে ফন্দি আঁটেন চালক সুমন। সে তাকে নিয়ে শহরে না ফিরে ভিন্ন উল্টো পথে সিএনজি অটোরিকশা চালাতে থাকে। অনেকক্ষণ পর এটা বুঝে ফেলে সিএনজি অটোরিকশা থেকেই লাইভ লোকেশন ও হোয়াটসঅ্যাপে বাবাকে মেসেজ পাঠায় তাসনিম।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করে।
পুলিশের তথ্য মতে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজার হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্স বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। এরপর তাকে বহন করা সিএনজিটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে জগতপুর ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে নির্জন স্থানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনের হত্যা নিশ্চিত করে চালক। পুরো হত্যাকাণ্ড ও ঘটনা সে একাই সংগঠিত করেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল (তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ)।
তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করার সুবাদে তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
ঘটনার পটভূমি থেকে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সবশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। ওইদিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে সে তার লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যেতে মেসেজ পাঠায়। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় বাবা ঘুমিয়ে থাকায় মেসেজটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত হিসেবে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং পরবর্তীতে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ইতোমধ্যে জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনার পর নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Comments
Post a Comment